বরফের ওপর ছোট্ট এক দোকানে শুরু হলো পেঙ্গুইন মালিকের ব্যস্ত দিন। পেঙ্গুইনের রেস্তোরাঁ একটি সহজ ম্যানেজমেন্ট গেম, যেখানে নিজেই ঘুরে ঘুরে উপকরণ জোগাড় করবেন, ক্যানজাত খাবার বানাবেন আর ক্রেতাদের সেবা দেবেন। অগোছালো জায়গা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে টেবিল আর কাউন্টারসহ একটি জমজমাট রেস্তোরাঁ গড়ে তুলুন।
সব কাজ এক জায়গায় হয় না। মাছ ধরার ঘাটে মাছ ধরুন, ক্যান মেশিনে খাবার তৈরি করুন আর কাউন্টারে অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করুন। মিষ্টি পেঙ্গুইন আর বরফশীতল সমুদ্রের মাঝে কোন কাজটা আগে করবেন, সেই ছোট ছোট সিদ্ধান্তেই জমে ওঠে রেস্তোরাঁ চালানোর মজা।
যেভাবে খেলবেন
- স্ক্রিনে আঙুল টেনে পেঙ্গুইনকে সরান। শুরুতে নির্দেশক তির অনুসরণ করে CLEAN UP এলাকায় গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করুন। চিহ্নিত এলাকার ভেতরে থেকে কাজের অগ্রগতি দেখুন।
- পরিষ্কার করা শেষ হলে রেস্তোরাঁ খোলার নির্দিষ্ট জায়গায় যান। নির্দেশনা মেনে টেবিল, কাউন্টার আর ক্যান মেশিন বসান। প্রতিটি নির্মাণ এলাকায় কত গেমের টাকা লাগবে, তা দেখানো থাকে।
- মাছ ধরার নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে মাছ ধরুন। ধরা মাছ যেখানে জমা হয়, সেখানে গেলে সেগুলো তুলে নিয়ে যেতে পারবেন।
- মাছগুলো ক্যান মেশিনের উপকরণ দেওয়ার জায়গায় পৌঁছে দিন। তারপর মেশিন চালানোর এলাকায় দাঁড়িয়ে ক্যানজাত খাবার বানান এবং তৈরি ক্যান রাখার পাশ থেকে সেগুলো সংগ্রহ করুন।
- ক্যানগুলো কাউন্টারে নিয়ে যান এবং বিক্রির নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়ান। অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের খাবার বিক্রি করে রেস্তোরাঁর কাজ সচল রাখুন।
- ক্রেতাদের খাওয়া শেষ হলে টেবিল পরিষ্কার করুন। আয় আর পরের স্থাপনার খরচ দেখে নিন। স্ক্রিনের নির্দেশনা ও লক্ষ্য মেনে একে একে দরকারি কাজগুলো করুন।
উপকরণ থেকে বিক্রি—সবই এক ধারায়
অনেক মাছ ধরলেই হবে না। মাছ মেশিনে না পৌঁছালে বিক্রির খাবার তৈরি হবে না। আবার ক্যান তৈরি হলেও কাউন্টারে না নিলে অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের সেবা দিতে পারবেন না। খেয়াল করুন, কোন ধাপে কাজ জমে আছে।
মাছ ধরা, বহন করা, তৈরি করা আর বিক্রিকে আলাদা কাজ না ভেবে একটানা একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখুন। উপকরণ কম আছে কি না, তৈরি ক্যান পড়ে আছে কি না, ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন কি না—এসব দেখলেই পরের গন্তব্য ঠিক করা সহজ হবে। একই পথে বারবার গেলেও উদ্দেশ্য বুঝে চললে সব কাজ আরও গুছিয়ে করা যায়।
কাজের চিহ্নিত জায়গায় দাঁড়ান
কোনো মেশিন বা স্থাপনার কাছে গেলেই কাজ শুরু হবে না। উপকরণ দেওয়া, মেশিন চালানো আর তৈরি জিনিস সংগ্রহের জায়গা আলাদা হতে পারে। মেঝের চিহ্ন আর নির্দেশক তির দেখে সঠিক জায়গায় দাঁড়ান।
টেবিল বা কাউন্টারে পথ আটকে গেলে পাশ দিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজুন। একই দিকে ঠেলতে থাকার বদলে একটু ঘুরে গেলে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়। রেস্তোরাঁ চালাতে কোথায় কী আছে, সেটাও জেনে রাখা জরুরি।
ক্রেতারা চলে গেলে টেবিলও দেখুন
বিক্রি শেষ মানেই সব কাজ শেষ নয়। ক্রেতারা খেয়ে চলে যাওয়ার পর টেবিল পরিষ্কার করতে হয়। শুধু খাবার তৈরি আর বিক্রিতে মন না দিয়ে টেবিলের দিকেও নজর রাখুন।
শুরুতে নির্দেশনায় দেখানো একটি কাজ ভালোভাবে শেষ করাতেই মন দিন। কাজের ধারা বুঝে গেলে বর্তমান কাজ শেষ করে কোথায় যাবেন, তা আগেই ঠিক করুন। এভাবেই ছোট ছোট যাতায়াত মিলিয়ে গড়ে ওঠে পেঙ্গুইন মালিকের ব্যস্ত দিন।
একে একে বাড়ান স্থাপনা আর লক্ষ্য
নতুন স্থাপনা বসানোর আগে দেখানো খরচের সঙ্গে হাতে থাকা গেমের টাকা মিলিয়ে নিন। এখনকার কাজে কোন স্থাপনাটি বেশি সাহায্য করবে, তা ভেবে এগোলে উন্নতিটা স্পষ্ট বোঝা যায়। ফাঁকা জায়গায় নতুন নতুন কাজের ব্যবস্থা গড়ে ওঠাও দারুণ মজার।
দৈনিক কোয়েস্টে ক্যানজাত খাবার বিক্রি, আবর্জনা পরিষ্কার আর নিজে মাছ ধরার মতো লক্ষ্য পাবেন। রোজকার কাজের সঙ্গে মেলে এমন লক্ষ্যগুলো আগে দেখুন, আর কোনোটি শেষ হলে পুরস্কার পাওয়া যাচ্ছে কি না দেখে নিন।
নিজে মাছ ধরুন, খাবার বানান, পৌঁছে দিন আর বিক্রি করুন—রেস্তোরাঁ চালানোর প্রতিটি কাজেই আছে মজা। পেঙ্গুইনের রেস্তোরাঁয় বরফের ওপর ছোট্ট দোকানটি গুছিয়ে নিন, ক্রেতাদের স্বাগত জানান আর নিজের ছন্দে রেস্তোরাঁ চালান!